← সব টিপস
সম্পর্ক ৩ মিনিটের পড়া

দাম্পত্যে সুখ আসে ছোট ছোট সাতটি অভ্যাসে

কয়েক বছর পর ফুল, উপহার বা বিশেষ দিনের আয়োজন সম্পর্ককে ধরে রাখে না। ধরে রাখে প্রতিদিনের সাতটি সাধারণ অভ্যাস।

ভালোবাসার গল্পের শুরুটা প্রায়ই সুন্দর। প্রথম দেখা, প্রথম লম্বা আলাপ, প্রথম হাত ধরা — সবই যেন সিনেমার দৃশ্য। তারপর কয়েকটা বছর কেটে যায়। ফুল, উপহার কিংবা বিশেষ দিনে লেখা সুন্দর একটা পোস্ট তখন আর সম্পর্ক ধরে রাখে না। তখন সম্পর্ককে উষ্ণ রাখে কিছু একেবারে সাধারণ অভ্যাস, যা প্রতিদিন করতে হয়।

১. ধন্যবাদ বলাটা থামিয়ে দেবেন না

বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর মনে হয়, ধন্যবাদের আবার কী দরকার — চা বানানো, বাসন ধোয়া, বাজার করা, দরজা বন্ধ করা তো স্বাভাবিক কাজ। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর সুখে থাকা দম্পতিরা ঠিক উল্টোটা করেন। ছোট ছোট কাজের জন্যও তাঁরা একে অপরকে মুখে ধন্যবাদ বলেন। এতে ভদ্রতা নয়, সম্মানটাই প্রকাশ পায়। সম্পর্কে কোনো কিছুই যেন নীরবে ‘পাওনা’ হয়ে না যায়।

২. ঝগড়া হোক, তবে জেতার জন্য নয়

সুখী দম্পতিরা ঝগড়া করেন না — এটা ভুল ধারণা। তাঁরা ঝগড়া করেন, কিন্তু সম্পর্কের ক্ষতি না করে। ঝগড়া ছোট রাখে যে প্রশ্নটা, সেটা ‘আমি কি ঠিক?’ নয়; সেটা হলো ‘আমরা কি সমস্যাটা মেটাচ্ছি?’ সমস্যার একই পাশে দাঁড়ানো দুজন মানুষ আর একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ানো দুজন — তাঁদের ঝগড়া একরকম হয় না।

মতের অমিলে আসল প্রশ্ন কে ঠিক, তা নয়। আসল প্রশ্ন — এখন আমরা কী করব।

৩. বদলানোর চেষ্টা নয়, বোঝার চেষ্টা

অনেক অশান্তির শুরু হয় অপেক্ষা থেকে — সঙ্গী একদিন বদলে যাবেন, স্বভাবটা ঠিক হয়ে যাবে, রাগ কমে যাবে, টাকা খরচের ধরন পাল্টাবে। মানুষ বদলায় ঠিকই, কিন্তু অন্যের সময়সূচি মেনে নয়, আর বলে দিলে তো নয়ই। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকা দম্পতিরা একই কথা বলেন: মানুষটিকে তাঁর মতো করেই গ্রহণ করতে হয়, আর ঠিক করতে হয় কোন অমিলগুলোর পাশে আপনি থাকতে পারবেন।

৪. আলাদা দুজন মানুষ, একটাই সংসার

সুস্থ সম্পর্ক মানে সব কাজ একসঙ্গে করা, একই বন্ধু রাখা বা একই রকম ভাবা নয়। এর মানে দুজনেরই নিজের কিছু থাকা — কাজ, বন্ধুত্ব, শখ, কিংবা দিনের একটা নিরিবিলি সময় — আর অন্যজন সেটাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা, ক্ষতি হিসেবে নয়। নিজের জায়গায় পরিপূর্ণ একজন মানুষ সম্পর্কে বেশি কিছু দিতে পারেন, কম নয়।

৫. দিনে পাঁচ মিনিট

লম্বা আলাপ নয়, গুরুগম্ভীর আলোচনাও নয় — দিনে পাঁচ মিনিট, যাতে দুজনেই বলেন আজ দিনটা কেমন গেল, মনে কী চলছে, কোন জিনিসটা ভালো লেগেছে। প্রতিদিন হলে ছোট বিষয় ছোটই থাকে; কারণ কোনো কথাকে তখন ‘বলার মতো বড়’ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।

৬. ক্ষমা করুন, আর মনে রাখবেন না

ভুল দুই পক্ষেরই হবে। কয়েক দশক ধরে সুখে থাকা দম্পতিরা ভুল নিয়ে একই কথা বলেন: নিজের ভুল বুঝলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চান, আর একবার ক্ষমা করে দিলে সেটা আর ফিরিয়ে আনবেন না। যে সম্পর্কে পুরোনো প্রতিটি ভুল প্রমাণ হিসেবে হাজির করা যায়, সেই সম্পর্ক যিনি ফাইল ধরে রাখেন তাঁর জন্যও ক্লান্তিকর, যিনি কাঠগড়ায় থাকেন তাঁর জন্যও।

৭. ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, সিদ্ধান্তও

অনুভূতি আসে-যায়; সিদ্ধান্তটা প্রতিদিন নিতে হয়। আজও কি আমি এই মানুষটার পাশে দাঁড়াব? আজও কি সম্মান নিয়ে কথা বলব? আজও কি সত্যিই মন দিয়ে শুনব? যে সম্পর্কে দুজনেই বেশির ভাগ দিন ‘হ্যাঁ’ বলতে পারেন, সেই সম্পর্ক টিকে যায় — আর সেটা ভাগ্যের চেয়ে পরিশ্রমের কাছাকাছি।

সংক্ষেপে

সাতটির একটিও কঠিন নয়। সেটাই মূল কথা — এগুলো এত ছোট যে খারাপ একটা দিনেও করা যায়, আর ঠিক তখনই এগুলো সম্পর্ককে ধরে রাখে।

লেখাটি শেতুর জন্য লেখা। সাতটি অভ্যাস দীর্ঘদিন সুখে থাকা দম্পতি ও মনোবিদদের পরিচিত পরামর্শ; প্রথম আলোর (prothomalo.com) একটি প্রতিবেদন এ লেখার সূত্র।

জীবনসঙ্গী খুঁজছেন?

যাচাই করা প্রোফাইল, পরিবারও সাথে — আর দেখা ফ্রি।

প্রতিটি প্রোফাইল একজন মানুষ যাচাই করেন। দুই পক্ষ রাজি না হওয়া পর্যন্ত ছবি ঢাকা থাকে, নাম গোপন থাকে।

ফ্রি রেজিস্টার করুন

আরও টিপস